সর্বপ্রথম জাহান্নামি যারা আলেম শহীদ ও দানবীর।
তিন ব্যক্তিকে সবার আগে জাহান্নামে পাঠানো হবে কারণ তাদের নিয়ত শুদ্ধ ছিল না। অর্থাৎ তারা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই এবাদত করে নি।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন ,
কিয়ামতের দিন যাদের সর্বপ্রথম বিচারের জন্য আনা হবে তাদের মধ্যে অন্যতম হবে,
একজন আলেম ,একজন দানবীর ,আর আল্লাহর পথে জিহাদ কারি শহীদ।
আল্লাহ তায়ালা প্রথমে শহীদ ব্যক্তিকে তাকে দেওয়ার নেয়ামত গুলো দেখিয়ে প্রশ্ন করবেন? এসব নেয়ামত দ্বারা তুমি কি করেছো?
সে উত্তর দেবে ,আমি আপনার পথে লড়াই করে শহীদ হয়েছি। আল্লাহ বলবেন তুমি মিথ্যা বলছো! তুমি শহীদ হয়েছিল যাতে তোমাকে লোকে বীর বাহাদুর বলে আর সেটা তুমি পেয়েছো। তাই এখানে তোমার কোনো প্রাপ্য নেই। তারপর তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।
অতঃপর একজন দানবীরকে উপস্থিত করানো হবে।
তাকে দেওয়া সম্পদ দেখিয়ে আল্লাহ বলবেন,
এসব নেয়ামত দ্বারা তুমি কি করেছো?
সে উত্তর দিবে আমি আপনার সন্তুষ্টির জন্য এ সম্পদগুলো আপনার পথে ব্যয় করেছি।
তখন আল্লাহ বলবে তুমি মিথ্যা বলছো! তুমি এসব করেছ যাতে দুনিয়ায় লোকে তোমাকে দানবীর বলে আর তুমি সেটি পেয়েছো।
তাই এখানে তোমার কোন প্রাপ্য নেই । তাকেও জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।
এরপর একজন আলেম কে নিয়ে আ আসা হবে ।আল্লাহ তাআলা তাকে প্রশ্ন করবেন?
তোমাকে আমি যে জ্ঞান দিয়েছিলাম সেটি তুমি কোন পথে ব্যয় করেছ?
সে উত্তরে বলবে ,আমি আপনাকে খুশি করার জন্য সেই জ্ঞান আমি অন্য মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছি।
আল্লাহ বলবে তুমি মিথ্যা বলছো !
তুমি এসব জ্ঞান লোকের কাছে পৌঁছে দিয়েছো যাতে লোকেরা তোমার প্রশংসা করে এবং প্রাধান্য দেয়।
সেটি তুমি দুনিয়ায় পেয়ে গেছো ।আর এখানে তোমার কোনো প্রাপ্য নেই। অতএব তাকে ও জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। (সুনানে তিরমিজি-2382)
আমাদের যেকোন কাজে প্রধান বিষয় হচ্ছে নিয়ত। আমরা কি আল্লাহর জন্য ইবাদত করছি নাকি অন্য কোন কিছুর জন্য করছি , সেটা ঠিক হওয়ার পরেই ইবাদত কবুল হওয়ার ব্যাপারে আশা করা যায়।
আমরা যদি নিজেদের আমল কে বড় মনে করতে থাকি,
এবং লোক দেখানোর উদ্দেশ্যে ইবাদত করে থাকি, তাহলে সেটি দয়াময় আল্লাহ কবুল করবেন না।
রাসুল সাঃ বলেছেন যার মনের যবের দানা পরিমাণ অহংকার থাকবে । সে কখনো জান্নাতে প্রবেশ করবে না ।
এরপর এক ব্যক্তি বললেন, মানুষ এটাই পছন্দ করে যে তার পোশাক সুন্দর হোক, এমনকি তার জুতা জোড়াও সুন্দর হোক। তাহলে তাও কি অহংকার?
উত্তরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন,
আল্লাহ সুন্দর ও তিনি সৌন্দর্য পছন্দ করেন।
আসলে অহংকার হচ্ছে সত্য ও ন্যায় কে উপেক্ষা করা এবং মানুষকে তুচ্ছ করা।
(সহিহ মুসলিম -91;সুনানে তিরমিজি -1998;সুনানে আবু দাউদ-4091;মুসনাদে আহমদ-3779)
আমরা যারা আমাদের নিজেদের আমল নিয়ে আত্মঅহংকারী। আমাদের সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।
সবার আগে জাহান্নামে যাবে এমন তিন ব্যক্তি অন্তর্ভুক্ত না হবার তৌফিক দান করুন । ইয়া রব।
0 মন্তব্যসমূহ