মামলা মোকদ্দমা হিংসা ষড়যন্ত্র থেকে মুক্ত থাকার দোয়া।
| মামলা মোকদ্দমা হিংসা ষড়যন্ত্র থেকে মুক্ত থাকার দোয়া। |
হিংসুকের শত্রুর মোকাবেলায় মনের দৃঢ়তা আল্লাহর সাহায্য লাভের দোয়া-
" ইন্না ওয়ালিইয়িইয়াল্লা-হুল্লাজি নাঝ্ঝালাল কিতাবা ওয়া হুয়া ইয়াতাওয়াল্লাসসা-লিহীন।
অর্থাৎ- আমার অভিভাবক তো আল্লাহ যিনি কিতাব অবতীর্ণ করেছেন। এবং তিনি নেককার লোকদের অভিভাবকত্ব করে থাকেন।( সূরা আরাফ, আয়াত ১৯৬)।
আয়াতটির প্রেক্ষাপটে বলা হয়েছে, মক্কার কুরাইশ কাফেররা নবী করিম সাঃ বিরোধিতা করেছিল এবং নানাভাবে কষ্ট দিচ্ছিল। তাদের সকল ষড়যন্ত্র ও বিরোধিতার মোকাবেলায় তিনি ইস্পাতকঠিন দৃঢ়তা নিয়ে নিয়ে ইসলামের বাণীকে এগিয়ে নিয়েছেন। পেছনে তার শক্তি ছিল আল্লাহর সাহায্য ও পৃষ্ঠপোষকতা। এই পৃষ্ঠপোষকতার চিত্র ফুটে উঠেছে, শত্রুদের মোকাবেলায় মনের দৃঢ়তা ও আল্লাহর সাহায্য লাভের উল্লেখিত দোয়ায়।
এখানে 'অলি অর্থ রক্ষাকারি,সাহায্যকারী। আর 'কিতাব' অর্থ কুরআন।
ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু তা'আলা ভাষায় 'সালেহিন' সে সমস্ত লোক,যারা আল্লাহর সাথে কাউকে শরিক করে না। নবী-রাসূল সাধারণ সৎকর্মশীল মুসলমান সবাই সালেহীনদের অন্তর্ভুক্ত।
নবী করিম সাঃ বলেন যে আমি তোমাদের বিরোধিতার কোন ভয় করিনা। কারন আমার রক্ষাকারী ও সাহায্যকারী হলেন আল্লাহ।
শুধু আমি বা কোনো নবী-রাসূল কেন ,সাধারণ মুসলমানদের জন্য আল্লাহ সহায় ও রক্ষাকারী। আর আল্লাহ যার সাহায্যকারী হন, কোন শত্রুর শত্রুতা তার ক্ষতিসাধন করতে পারে না।
মামলা মোকাদ্দাম ও জুলুম থেকে বাঁচার দোয়া।
কালা রাব্বানা ইনান্না- নাখা-ফু আই ইয়াফরুত আলাইনা আও আই ইয়াত-গা-।
অর্থাৎ- হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা আশঙ্কা করছি যে আমাদের ওপর বাড়াবাড়ি করবে অথবা অন্যায় আচরণে সীমালংঘন করবে। ( সূরা তোহা, আয়াত ৪৫)।
আয়াতটির প্রেক্ষাপট হলো, হযরত মুসা আঃ এর অলৌকিক ভাবে লালিত-পালিত হয়েছিলেন চরম শত্রু মিশরের অধিপতি ফেরাউনের ঘরে ।বড় হয়ে এক ঘটনা ফেরাউন ও তার সব আঁধার সব সভাসদ হত্যার ষড়যন্ত্র করে । টের পেয়ে তিনি মিশর ত্যাগ করে নিরুদ্দেশ চলে যান। শেষ পর্যন্ত তা ঠাঁই হয় মাদায়েনে আল্লাহ নবী হযরত শোয়াইব (আঃ) এর ঘরে। হযরত শোয়াইব (আঃ) তার এক মেয়েকে বিয়ে দেন মুসা (আঃ)এর সঙ্গে।
কয়েক বছর পর স্ত্রীকে মাদায়েন থেকে আসার পথে তিনি নবুওয়াত লাভ করেন। আদেশ দেওয়া হয় ফেরাউনের কাছে গিয়ে তাকে তাওহীদের দাওয়াত দেওয়ার জন্য।
বলা হয়: (মুসা) তুমি ও তোমার ভাই (হারুন) আমার নির্দেশনাবলীসহ যাও এবং আমার স্মরণে শৈথিল্য প্রদর্শন করো না। তোমরা উভয়েই ফেরাউনের কাছে যাও ,সে খুব উদ্যত হয়ে গেছে। অতঃপর তোমরা তার সাথে নম্রভাবে কথা বলো, হয়তো সে চিন্তা-ভাবনা করবে অথবা ভীত হবে। মূসা আলাইহিস সালাম আরজ করেন :হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা আশঙ্কা করছি যে ,সে আমাদের ওপর বাড়াবাড়ি করবে অথবা অন্যায় আচরণের সীমালংঘন করবে।
ইতিহাস বলে ,
মুসা (আঃ)এর -এই দোয়া ও পরবর্তী ঘটনা শেষ পর্যন্ত ফেরাউন ধ্বংস ও নিলনদে তার সলিল সমাধি হয়েছিল।
Blessings to stay free from lawsuits and violence conspiracies.
ষড়যন্ত্রের মোকাবেলা আল্লাহর সাহায্য লাভের দোয়া-
কাজলিকা আরসালনাকা -ফি ~উম্মাতিং কা'দ খালাত মিং কাবলিহা~ উমামুল লিতাতলুওয়া আলাইহিমূল্লাযী ~আওহাইনা ইলাইকা ওয়াহুম ইয়াকফূরূনা বিররাহ-নি কুল হুওয়া 'আলাইহি তাওয়াক্কালতু ওয়া ইলাইহি মাতা'ব।
অর্থাৎ -তিনি আমার প্রতিপালক তিনি ব্যতীত কোন ইলাহ নেই তার ওপর আমি নির্ভর করে এবং আমার প্রত্যাবর্তন তার নিকট। (সূরা আর-রাদ, আয়াত-৩০)
ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় আল্লাহ সাহায্য লাভের দোয়াটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কাফের মুশরিকদের নানামুখী ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় আল্লাহর সাহায্য লাভের জন্য নবীজিকে স্বয়ং আল্লাহতায়ালার এই দোয়া শিখিয়ে দেন।
আল্লাহর গোপন সাহায্য লাভের বরকত পূর্ণ দোয়া-
ওয়া রাফা'আ আবাওয়াইহি আলাল আরশি ওয়া খাররু লাহু ছুজ্জাদাও ওয়া কালা ইয়া আবাতি হা-যা-তা'ওয়ীলু রু'ইয়া মিং কাবলু কাদ জা'আলাহা হাক্কাও ওয়া কাদ আহছানা বী~ইজ আখরাজানি মিনাছছিজনি ওয়া জা~আ বিকুম মিনাল বাদ ওয়ি মিম বাদি আন নাঝাগাশশাইতা -নু বাইনী ওয়া বাইনা ইখওয়াতি ইন্না রাব্বী লাতীফুল লিমা-ইয়াশা~উ ইন্নাহূ হুওয়াল আলীমুল হাকীম।
অর্থাৎ -আমার প্রতিপালক যা ইচ্ছা তা নিপুণতা সাথে করেন। তিনি সর্বজ্ঞ ,প্রজ্ঞাময়। (সূরা ইউসুফ আয়াত-১০০) এই আয়াতটি ইউসুফ (আঃ) ঘটনাকে কেন্দ্র করে অবতীর্ণ হয়। ইউসুফ (আঃ)এর ভাইয়েরা দ
তৃতীয়বার ক্যানন থেকে মিশরে আসে ছোট ভাইকে বিনয়ামীনকে মুক্ত করার আশায়। আগের বার খাদ্য রিলিফ নেওয়ার জন্য আসলে সহোদর ছোট ভাইকে ইউসুফ (আঃ) কৌশলে নিজের কাছে রেখে দিয়েছিলেন। পিতা ইয়াকুব (আঃ) তাদেরকে এ উদ্দেশ্যে প্রেরণ করেন।
এবার তারা রিলিফের জন্য আবেদন করলে ইউসুফ (আঃ) সরাসরি জিজ্ঞেস করলেন, তোমাদের কি মনে আছে ইউসুফের হত্যার ব্যাপারে তোমরা কি কাজটা করেছিলে?
তখনই তারা বুঝতে পারে, যে প্রশ্নকর্তা নিজেই ইউসুফ। ভাইরা তখন নিজেদের দোষ স্বীকার করে। তারপর ইউসুফ নিজের গায়ের জামাটি তাদের হাতে দিয়ে পিতা মাতাকে নিয়ে আসার জন্য বলে দেন।
ইয়াকুব (আঃ) দির্ঘ বিরহের পর ইউসুফের জামাটি পেয়ে বুকে মুখে জড়ানোর সাথে সাথে তার দৃষ্টিশক্তি ফিরে পেলেন।
তারা এবার মিশরে আসলেন। ইউসুফ (আঃ) পিতা-মাতাকে নিজের পাশে সিংহাসনে বসালেন । ভাইয়েরা কৃতকর্মের জন্যে অনুতপ্ত।
ইউসুফ কে সম্মানার্থ সিজদা, করলেন । ইউসুফ ভাইদের ক্ষমা করে দিলেন।
পিতাকে বললেন এই হল চাঁদ সূর্য আর এগারোটি তারা । আমাকে সেজদা করার ব্যাপারে ছোটবেলা দেখা স্বপ্নের ব্যাখ্যা।
আল্লাহতায়ালার তার অতি শুকনো ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে আমাদের এই পর্যায়ে এনেছেন এবং শয়তান আমাদের মাঝে যে ব্যবধান সৃষ্টি করেছিল তা দূর করে দিয়েছেন। আল্লাহর সূক্ষ্ম সাহায্য লাভের জন্য এই দোয়াটি খুবই বরকতপূর্ণ।
Blessings to stay free from lawsuits and violence conspiracies.
0 মন্তব্যসমূহ