| যাদের কে নবীজী জমিনের মধ্যে সবচেয়ে নিকৃষ্ট ব্যাক্তি বলেছেন-Whom the Prophet called the worst person in the land |
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ- রাসূল সাল্লাহু সাল্লাম বলেছেন জমিনের মধ্যে ঐ ব্যাক্তি সবচেয়ে বেশি খারাপ যারা দুই মুখওয়ালা। আল্লাহর রাসূল সাল্লাহু সালাম বলেছেন ,তাদের থেকে নিকৃষ্ট কোন ব্যক্তি হতে পারে না আপনার সামনে বসে আপনাকে ভালো বলবে আপনার সামনে বসে আপনাকে ভালো বলবে এবং ছলে-বলে-কৌশলে আপনাকে বিভিন্ন ধরনের কথা বলে আপনার কাছ থেকে গোপন কথা আদায় করার চেষ্টা করবে ।যখন কোন একটা কথা পেয়ে যাবে তখন সেই কথাটা অপর একজন ব্যক্তিকে বলবে। যাকে এই কথাটা বলা একদম উচিত না ।
তাদের কাজ হচ্ছে চোগলখুরী করা ,একজনের কথা নিয়ে সেটাকে মসলা লাগিয়ে ইনিয়ে-বিনিয়ে আরেকজনের কানে লাগিয়ে দেয়া। যাতে এই দুজনের মধ্যে দ্বন্দ্ব সংঘাত লাগিয়ে দেয়া যায় । রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন জমিনের মধ্যে নিকৃষ্ট ঐ ব্যাক্তি,যে একজনের কথা আরেকজনকে বলে আবার আরেকজনের কথা নিয়ে মসলা লাগিয়ে আরেকজনকে বলে । আপনি দেখবেন যে মাছি এই প্রানীটা। একটা ময়লার মধ্যে বসে ঐ ময়লা থেকে ময়লা তুলে একটি ভালো খাবারের মধ্যে রেখে দেয়। যখন ভাল খাবারের মধ্যে রেখে দেয় তখন কিন্তু ভালো খাবার নষ্ট হয়ে যায়। আবার আরেক প্রজাতির আছে মৌমাছি। মৌচাকে মধু আহরণ করে। সে যখন খায় তখন তার থেকে মধু সৃষ্টি হয়। সে এক ফুল থেকে আরেক ফুলে উড়ে গিয়ে কখনো ময়লা আবর্জনা ছড়ায় না মধু ছড়ায় ।
| যাদের কে নবীজী জমিনের মধ্যে সবচেয়ে নিকৃষ্ট ব্যাক্তি বলেছেন-Whom the Prophet called the worst person in the land |
আমাদেরকে মাছি না হয়ে মৌমাছি হওয়া উচিত। প্রিয় দর্শক আমার কথাটা আজ থেকে মুখস্থ করে নিন ।আমরা শুধু মধু আহরণ করতে চাই ময়লা নয়। মানুষের মধ্যে যেন আমরা ঘৃণা ছড়ায় শুধুমাত্র ভালোবাসা বিতরণ করি। এইসব মানুষ গুলোর কারণে অনেক পরিবার ধ্বংস হয়ে যায় অনেক বন্ধু নষ্ট হয়ে যায়। এবং ওই চোগলখোররা খুবই নিকৃষ্ট হয়ে থাকে যারা নিকৃষ্ট হয়ে থাকে যারা স্বামী-স্ত্রী মধ্যে চোগলখোরী করে। স্ত্রীর কাছে স্বামীর বদনাম করে স্বামীর কাছে স্ত্রীর বদনাম করে। এবং এর মাধ্যমে তাদের মধ্যে যখন দ্বন্দ সৃষ্টি হয় দূরত্ব সৃষ্টি হয় ।একটি পর্যায় সেটা তালাক পর্যন্ত পৌঁছে যায় ।অথচ যখন একজন বান্দা আরেকজন বান্দিকে তালাক দেয়। আল্লাহ তাআলার আরশ কেঁপে ওঠে । এই চোগলখোরী করে বন্ধুর সাথে বন্ধুর সম্পর্ক নষ্ট ,স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক নষ্ট ,পিতা-মাতার সাথে সম্পর্ক নষ্ট ,পারিবারিক সম্পর্ক ধংস, আরো কত কি। তাই কখনো চোগলখোর বা মসলা দিয়ে কথা বলা ব্যক্তির কথা যাচাই-বাছাই না করে গ্রহণ করা উচিত না। পরিবারের দ্বন্দগুলো কিন্তু এ কারণে বেশি সৃষ্টি হয় ।
আপনি দেখবেন কোনো কারণে ব্যস্ততার ফলে একজনের সাথে আরেকজনের কথা হচ্ছে না। আপনি দেখলেন যে তার সাথে আর কথা হয়না এখন তাদের মধ্যে দূরত্ব কিভাবে সৃষ্টি করে দেওয়া যায়? তখন তাকে গিয়ে বলে জানো ,তোমার নামে সে কি বলেছে তোমার নামে তো এটা বলেছি ওটা বলেছে। তখন আপনি হয়তো মনে করলেন হ্যা আসলেই তো আমার নামে হয়তো এসব কথাই বলেছে। আর আমাদের অন্তর মন্দপ্রবণ এটা কোরআনের আয়াত। আমরা নেগেটিভ চিন্তা খুব বেশি করে ফেলি- তারপর আপনি যাচাই ও করলেননা তাকে জিজ্ঞেস করলেন না, যে তুমি কি আদতেই আমার নামে এমনটা বলেছ? আমি তো শুনেছি যে তুমি বলেছ ? যাচাই-বাছাই ছাড়াই আপনি তার সাথে দ্বন্দ্ব সংঘাতের সৃষ্টি করে ফেললেন। তাই আমাদের উচিত হবে যখন আমাদের কাছে এ ধরনের কথা বলে তখন আমরা যেন তা যাচাই-বাছাই করে নেই।হ্যা সে হয়তো আমাদের এই কথা বলেছে। আমি যদি তাকে সরাসরি জিজ্ঞেস করি সে হয়তো লজ্জিত হবে। এমনটা আপনার মনে হতে পারে । মনে হতে পারে সে হয়তো অপমানিত বোধ করতে পারে আপনি কিন্তু মোটেও বলবেন না ।এটা ভুল ধারণা আপনি তাকে সরাসরি বলবেন।
আমি এমনটা শুনলাম-আসলেই কি তুমি এমনটা আমার উদ্দেশ্যে বলেছো। সে হয়তো আপনার ভুল ধারণা মিটিয়ে দিতে পারে অথবা ঘটনা ভিন্ন কিছু হতে পারে। তাই কখনো চোগলখোর দের কথা বিশ্বাস করবেন না। বাস্তব সত্যটা জানার পর আপনি রিয়াক্ট করবেন তার আগে নয়। এবং তাদের সঙ্গ ত্যাগ করা তাদের সাথে কোথাও বসলে সেখান থেকে উঠে যাওয়া উচিত। কেননা জমিনের মধ্যে সবচেয়ে বড় ভাইরাস হচ্ছে এই লোক গুলো। আল্লাহ তাআলা তাদের হাত থেকে আমাদের রক্ষা করুক ।আর যাদের মধ্যে এই অভ্যেস আছে আজ থেকে সরে আসুন কারণ আল্লাহ রাসুলের দৃষ্টিতে পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে নিকৃষ্ট।
0 মন্তব্যসমূহ