রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধ কি মালহামার সূচনা ? ইসলাম কি বলে?
রাশিয়া এবং ইউক্রেন যুদ্ধ কি মালহামার যুদ্ধের সূত্রপাত ঘটাচ্ছে?
এটা কি ইমাম মাহদী (আঃ) আগমন এর কোন প্রেক্ষাপট সৃষ্টি করছে? এটি কি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের কোন আলামত? মুসলিম হিসেবে এই সমস্ত বিষয় নিয়ে আমাদের করণীয় কি?
অনেকেই বলেন একজন মুসলিম হিসেবে ইউক্রেনকে সমর্থন করবো নাকি রাশিয়া কে সমর্থন করবো?
আর একজন মুসলিম হিসেবে আমাদের মাথায় রাখতে হবে, পক্ষে-বিপক্ষে যারা আছেন তারা কেউ কিন্তু ঈমানদার নয়।
মুসলমানদের জাতিসত্তার পুরো পৃথিবীতে আজ নীপড়িত এবং কঠিন কষ্টের মধ্যে আছে। ফিলিস্তিনের সেই শিশুটির কথা মনে আছে? যে মৃত্যুর পূর্বে বলে গিয়েছিল আমি আল্লাহর কাছে বিচার দেবো, এই শিশুর চিৎকার আজও যেন কানে বাজছে।
আজ ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েতে প্রতিমুহূর্তে বোমাবাজি হচ্ছে সেখানে নিরীহ মানুষ মৃত্যুর শিকার হচ্ছে। কোন মুসলিম এক আল্লাহ বিশ্বাসী সে কখনোই আস্তিক-নাস্তিক ,ঈমানদার হোক ,বেইমান হোক ,কোনো মানুষের মৃত্যুকে কামনা করতে পারে না।
ধ্বংসযজ্ঞ বোমাবাজি কখনো ইসলাম সমর্থন করে না, পৃথিবীতে অন্যায় যুদ্ধ-বিগ্রহ ইসলাম সমর্থন করে না। আমরা আল্লাহ তায়ালার কাছে দোয়া করি অতি দ্রুত আল্লাহতায়ালা শান্তি যেনো ফিরিয়ে আনে।
লক্ষ্য করুন সেখানে কিন্তু মুসলিমরা রয়েছে, তাদের আত্মীয়-স্বজন রয়েছে , এইতো বাংলাদেশের ৪৭ ব্যাচের একজন ইঞ্জিনিয়ার মিসাইল হামলা, সেখানে আপনার মারা গিয়েছেন। আল্লাহ সুবহানাতায়ালা তাকে শাহাদাতের মর্যাদা প্রদান করুন।
মাথায় রাখতে হবে মিডিয়া যা প্রচার করছে তার ১০০ভাগ সত্য নাও হতে পারে । আপনাকে বুঝতে হবে কোনটা সত্য কোনটা মিথ্যা আর সর্বক্ষেত্রে আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল করুন।
কোনো পক্ষপাতিত্ব দরকার নেই ,মুহাম্মদ রাসুলুল্লাহ অনুসারী হয়ে এক আল্লাহ বিশ্বাসী হয়ে অটল থাকুন।
যেখানে অন্যায় অত্যাচার হবে নির্যাতন হবে তার বিরুদ্ধে কথা বলবেন ,কোন পক্ষপাতিত্বের প্রয়োজন নেই।
প্রশ্ন আসতে পারে সাধারণ মুসলিম হিসেবে আমাদের কি করনীয় ?? সেক্ষেত্রে আমি বলব বেশি বেশি নফল সালাত আদায় করুন । প্রয়োজনে রোজা রাখেন তার পাশাপাশি ফরয সালাতগুলোর পড়ে মোনাজাতে আল্লাহর কাছে বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য দোয়া করুন।
দোয়া করেন ফিলিস্তিনি অসহায় নাগরিকদের জন্য, দোয়া করুন সিরিয়ার অসহায় মুসলিমদের জন্য, দোয়া করুন ইয়ামিনি নিপীড়িত মানুষের জন্য।
সর্বশেষ বলতে চাই ,যারা এই মালহামার যুদ্ধ ইমাম মেহেদির আগমন এর সূত্রপাত হিসেবে দেখছেন যে এই নিয়ে বিভিন্ন ধরনের ব্যাখ্যা দিচ্ছেন, শোনো বলছি আল্লাহর কসম বলেছিলেন মালহামা মানে হচ্ছে রাহাজানি ইত্যাদি সংগঠিত হবে। এবং সেই সময়টিতে ইমাম মাহদীর আগমন ঘটবে । আসলে রাশিয়া এবং ইউক্রেনের যুদ্ধ কোন বড় ধরনের মালহামা সূত্রপাত কিনা তা কেবল মাত্র আল্লাহ তা'আলা জানেন।
নিশ্চিত না হয়ে কোন বিষয়ে মন্তব্য করা কোন আলেমের জন্য ঠিক হবে না। কারণ গায়েবের খবর আল্লাহই ব্যতিত আর কেউ জানে না।
আর ইমাম মাহাদী (আঃ) এর আগমনের পূর্বাভাস কিনা সেটাও কিন্তু আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না।
তাই আমরা অধিক অধিক ধারণা করা থেকে দূরে থাকে আমাদের যা করণীয় তা হচ্ছে বিশ্ব শান্তির জন্য বেশি বেশি আল্লাহর কাছে দোয়া করা। অসহায় নিপীড়িত মানুষদের জন্য দোয়া করা এবং অসহায় নিপীড়িত ভিন্নধর্মাবলম্বীদের জন্য দোয়া করা। কেন নেই পৃথিবীতে প্রত্যেকটি মানুষকে আল্লাহ তা'আলা অত্যন্ত ভালো বেসে সৃষ্টি করেছেন।
0 মন্তব্যসমূহ