রাশিয়ায় মুসলিম ধর্মের অজানা ইতিহাস।Unknown history of the Muslim religion in Russia.

 রাশিয়ায় মুসলিম ধর্মের অজানা ইতিহাস।



আপনি জেনে অবাক হবেন শুধুমাত্র একটা দুর্ঘটনার কারণে ,একটু ভুল সিদ্ধান্তের কারণে, আজ রাশিয়ার মতো পৃথিবীর বৃহৎ শক্তির দেশ মুসলিম হয়ে উঠতে পারেনি। কি ঘটেছিল ১০০০বছর পূর্বে?


একটি মানুষের একটি ভুলের কারণে রাশিয়া একটি মুসলিম রাষ্ট্রে পরিণত হতে পারেনি।

সেসময়কার কথা যখন ঈসায়ী ধর্ম অর্থাৎ খ্রিস্টধর্ম ইউরোপ জুড়ে বর্তমানের মত এত শক্তিশালী ছিল না।

এছাড়া ও রাশিয়ার ভেতরে থাকা মানুষদের মধ্যে তাদের পুরনো সনাতন ধর্মই খুব একটা প্রভাব ফেলতে পারেনি। সে সময় রাশিয়ার রাজধানী মস্কোর ছিল না বরং বর্তমান যুদ্ধরত ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ ছিল রাশিয়ার রাজধানী। আর এই কিয়েভ ছিল রাশিয়া সবচেয়ে প্রাচীন এবং সভ্যতার উৎকৃষ্ট উদাহরণ ।সেসময় কিয়েভ এতটা উন্নত ছিল যে, সে সময় রাশিয়া কিয়েভের জন্য চিনা হত। আর এই শহরের নাম ডাক এত ছিল যে, অন্যান্য দেশে মানুষরা মাঝে মাঝে রাশিয়া না বলে অনেকে শুধুমাত্র রাশিয়াকে কিয়েভ বলে জানতো। সেসময় রাশিয়া এবং নর্থ ইউরোপের মধ্যে ঈসায়ী ধর্ম । এভাবে অর্থাৎ বর্তমানের মতো এতোটা শক্তিশালী ছিল না। তাই তখনকার মানুষ তাদের পুরাতন ধর্মকে ভুলে নতুন কোন ধর্মকে খুঁজছিল । কারণ তারা দেবদেবীর পূজাটা কে খুব একটা পছন্দ করত না। 

 কিন্তু দশম শতাব্দীতে একজন ডেনমার্কের শাসক যার নাম ছিল হিরান্ড। তিনি খ্রিস্টধর্ম গ্রহন করে নিয়েছিলেন। আর তার খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করার কারণ ছিল যে, তার পাশে যে সমস্ত ইউরোপিয়ান কান্ট্রি গুলো আছে তাদের সাথে খুব ভালো ব্যবসা-বাণিজ্য করতে পারে। এর সঙ্গে সঙ্গে তার পাশের রাষ্ট্র রোমানিয়ার সাথে যেন তার সম্পর্ক ভালো হয়ে ওঠে।

অর্থাৎ দুনিয়াবী স্বার্থ ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য সে খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করে। এবার যখনই ডেনমার্কের শাসক ধর্ম হিসেবে খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করে নিলেন। তখন খুদার রাজ্যে বসবাসকারী সাধারণ জনগণের ঈসায়ি‌ খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করল। আর দেখতে দেখতে নর্থ ইউরোপিয়ান ও অন্যান্য দেশগুলো খ্রিস্টান ধর্ম গ্রহণ করতে শুরু করে দিল।

এখানে দ্বিতীয় দিকে আমরা যদি রাশিয়ান সাম্রাজ্যের দিকে তাকায় তবে সেখানে এমন একজন শাসক ছিল যাকে বলা হত ব্লাদমির ফাস্ট ।আর যে সময়ে ব্লাদমির ফাস্ট সিংহাসনে বসে ছিল সেই সময়ে সাধারণ মানুষসহ তাদের পুরাতন ধর্ম ত্যাগ করতে শুরু করেছিল। এমনকি ব্লাদমির ফাস্ট সিংহাসনে বসে বুঝতে পারছিলেন মানুষজন তাদের এই পুরনো এই দেব-দেবীর পূজা পছন্দ করছে না। তারা ভালো কোন ধর্ম চাইছে।

 আর এই জন্য তিনি একটি ঘোষণা দিলেন যে তিনি বললেন এমন একটি ধর্ম খুঁজে আন যেটা পালন করার মাধ্যমে আমরা অনেক শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারব এবং সেটা সঠিক ধর্ম হবে।


এইবার এই খবর শোনার পর তার হুকুম পালনকারী সদস্যরা বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করতে শুরু করলো ধর্মের খোঁজে। অতঃপর দীর্ঘ রাস্তা পাড়ি দিয়ে পুরো বিশ্ব ভ্রমণ করে তারা খুঁজে খুঁজে শ্রেষ্ঠ তিনটি ধর্ম সম্পর্কে জানতে পারল। এই তিনটি ধর্ম যেগুলোকে তখনকার সময়ে বিশেষ এবং শক্তিশালী ধর্ম হিসেবে জানা হতো। এবং শ্রেষ্ঠ ধর্মের প্রথমে তারা ইয়াহুদীদের ধর্মকে রাখল আর বাদশাহ কে বলল, যে আপনার জন্য আনা তিনটে ধর্মের মধ্যে আমাদের দৃষ্টিতে শ্রেষ্ঠ ধর্ম হচ্ছে ইয়াহুদীদের ধর্ম। এরা ব্যবসা-বাণিজ্যের দিক থেকে খুবই উন্নত। এর সাথে তাদের ধর্ম অনেক পুরাতন। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে এরা যেখানে যায় মার খেয়ে সেখান থেকে মুখ ফিরিয়ে আনে । এমনকি তাদের নিজস্ব দেশ জেরুজালেম থেকে তাদেরকে বের করে দেয়া হয়েছে। পরবর্তীতে এই টিমের সদস্যরা আরো একটি বিশাল ধর্মের কথা তাকে জানালো সেটা হচ্ছে ঈসায়ী ধর্ম পাশাপাশি তারা এটাও বললো যে ধর্মের লোকজন বর্তমান পৃথিবীতে খুবই দরিদ্র অবস্থায় আছে। 


এরপর তারা বলল ইসলাম ধর্মের সম্পর্ক এবং বলল মুসলমানের বীরের জাতি এবং শক্তিশালী তাদেরকে বর্তমান সময়ে কারও পক্ষে হারানো সম্ভব না।

তারা সঙ্গে সঙ্গে মুসলমানরা দিনে দিনে তাদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং তাদের দিনের বেশিরভাগ সময়ে ইবাদতের মাধ্যমে কাটিয়ে দেয় এবং তাদেরকে পাঁচবার এবাদতে সময় বের করতে হয়।

তাছাড়া তারা ব্যবসা-বাণিজ্য কাউকে ধোঁকা দেয় না প্রতারণা করনা মিথ্যা বলে না এমনকি ডান্স গান কে তারা অপছন্দ করে থাকে।

এই কথা শুনে সে শাসক ভীষণ খুশি হলেন এবং সাথে সাথে বললেন তাদের একজন দক্ষ অভিজ্ঞ আলেম কে নিয়ে আসো এবং একজন খ্রিস্টান পাদ্রী কেউ নিয়ে আসো।

আদেশ অনুযায়ী খ্রিস্টান এক জন পাদ্রিকে আনা হলো এবং একজন মুসলমান আলেমকে আনা হলো ব্লাদমির ফাস্ট প্রথমে সেই ঈসায়ি জিজ্ঞেস করলেন তার কথা শোনার জন্য।

এবং তার কথা শুনে একজন মুসলিম আলেমকে বললেন তুমি বল এরপর যখন মুসলিম আলেম ব্লাদমির ফার্স্টকে ধর্মের কথা শোনাতে শুরু করলো, তখন ব্লাদমির ফাস্ট সেই মুসলিম আলেমের কথা খুবই পছন্দ করলেন এবং তিনি মন থেকে কথাগুলো শুনলেন। 

আর সে কারণেই তিনি ইসলাম ধর্মের প্রতি আগ্রহ দেখাতে শুরু করলেন ইসলাম সম্বন্ধে অনেক কিছু জানার পর ব্লাদমির ফাস্ট একটি সিদ্ধান্তে উপনীত হলেন যে তার দৃষ্টিতে সর্বশ্রেষ্ঠ ধর্ম ইসলাম ধর্ম।


কিন্তু যখনই তিনি জানতে পারলেন যে ইসলাম ধর্মে মদ খাওয়া হারাম তখন তিনি একটু ইতস্ত বোধ করলেন কেননা ব্লাদমির ফাস্ট তিনি মদ খুব ভালোবাসতেন। এবং তিনি মদকে শৌখিনতার শ্রেষ্ঠ উদাহরণ বলতেন তারপরও তিনি মনে মনে ভাবলেন যে কি আর করার, খ্রিস্টান ধর্ম মদ হারাম এবং মুসলিম ধর্মেরও হারাম।


তার থেকে বরং আমি মুসলিম ধর্ম গ্রহণ করে নেই। এর সাথে সাথে খ্রিস্টান পাদ্রী বলে উঠল মহারাজ আপনি কোন চিন্তা করবেন না, আমাদের ধর্মে মদ হারাম হলেও আপনি একটু খেলে কোন সমস্যা নেই আপনি স্বর্গে যেতে পারবেন। তারপর ব্লাদমির ফাস্ট মুসলিম আলেমের দিকে তাকিয়ে বললেন তুমি কি বলো? মুসলিম ধর্ম অনুযায়ী আমি কি একটু-আধটু মদ খেয়ে ও মুসলিম ধর্ম পালন করতে পারবো‌?


খ্রিস্টান পাদ্রী তো বলছে তার ধর্মের মদ খাওয়ার পরেও সেই ধর্ম পালন করতে সমস্যা নেই। যদিও সেই খ্রিস্টান ধর্মে নিষিদ্ধ । সাথে সাথে সেই মুসলিম আলেম বললেন মহারাজ, আমাদের ধর্মে মদ খাওয়া হারাম এবং মদ খাওয়ার পরে সে ব্যক্তি অপবিত্র হয়ে যায় ।এই ভয়াবহ পাপ করে আপনি কখনোই পরিপূর্ণ মুসলিম থাকতে পারবেন না।


আর এটি শোনার পর ব্লাদমির ফাস্ট সাথে সাথে খ্রিস্টান ধর্ম গ্রহণ করলেন এবং তাঁর সাথে তাঁর রাষ্ট্র জনগণ ও ঈসায়ী ধর্ম গ্রহণ করে নিলেন।

 

আর এর দ্বারা প্রমাণিত হল পৃথিবীতে একমাত্র ধর্মীয় বিশ্বাস যার নাম হলো ইসলাম । ইসলাম তার রীতিনীতি এবং হালাল-হারামের ব্যাপার অনেক কঠোর।

আর এই কারনেই ইসলাম ধর্ম অবলম্বী রাগ কোন ভাবে পথ ভ্রষ্ট হয় না ইসলাম আল্লাহর মনোনীত একমাত্র ধর্ম যার সাথে কোন আপোষ চলেনা। সুবাহানাল্লাহ।



একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

Ad Code

Responsive Advertisement