ধৈর্য ধরুন আল্লাহর পরিকল্পনা আমাদের চিন্তার চেয়েও বড়।
| اصبر خطة الله أكبر مما نعتقد. |
আসসালামুয়ালাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ-
হযরত ইমরানের স্ত্রী ছিলেন নিঃসন্তান। তিনি দেখেন একটি পাখি তার সন্তানদের আদর করছে। আবেগময় ঘটনাটি দেখেন নিসন্তান নারীর অন্তরে সন্তান লাভের বাসনা জাগলো। তিনি আল্লাহর কাছে দোয়া করি আল্লাহ যেন তাকে একই নেয়ামত দান করেন।
আল্লাহ পাক তাঁর স্বীয় রহমতে হযরত ইমরানের স্ত্রীর দোয়া কবুল করলেন এবং তিনি গর্ভবতী হলেন। তিনি
এতে এতটা খুশি হন যে তার রবের প্রতি কৃতজ্ঞতায় প্রতিজ্ঞা করেন যে তার সন্তানকে বায়তুল মুকাদ্দাসের খিদমতে ন্যস্ত করে দিবেন । প্রতিজ্ঞা করার মুহূর্তে সে নারী ভাবেন নি যে তার ঔরসে ছেলে সন্তান আসবে না মেয়ে ?
বায়তুল মোকাদ্দাসের খেদমতে তো মেয়ে সন্তান কে নিয়োজিত করা সম্ভব নয়। তারপর যথাসময়ে তার প্রস্রাবের সময় হল তিনি যা ভাবেন নি ,তাই হল।
তিনি একটি মেয়ে সন্তান জন্মদান করলেন।এই কন্যা ছিলেন বাহিক ও আধ্যাত্মিক উভয় সৌন্দর্যৈ অনন্যা।
সেও ছিল তার রবের অনুগত বান্দা। তারপর আল্লাহ তায়ালা এই মেয়েকে সন্তুষ্টচিত্তে কবুল করে নেন।
তার জন্মের কিছু সময় পর তার ঘরে প্রবেশ করলেই দেখা যেত নানান মৌসুমী বাহারি ফল-ফলাদি।
এই ফলগুলো ছিল আল্লাহর পক্ষ থেকে তার জন্য পাঠানো রিজিক। তিনি যখনই ইচ্ছা করতেন ও অলৌকিক উপায়ে এগুলো তার ঘরে এসে হাজির হতো।
হযরত ইমরানের এই কন্যা আজ পর্যন্ত সারা বিশ্বে আলোচিত। তার ঔরসে জন্ম নেয় পৃথিবীর সবচেয়ে বিখ্যাত মানুষদের একজন। তিনি মেরি বা মারিয়াম (সালামুন আলাইহা)।
এই কুমারী মারিয়াম- যার কাছে ইচ্ছা করলেই আল্লাহর রিজিক এসে হাজির হতো, আল্লাহর ইচ্ছায় তিনি গর্ভধারণ করলে তাকে নিয়ে সমাজে নানা কথা উঠলো। এতো কথার মুখে পড়ে তিনি লোকালয় থেকে দূরে এক জায়গায় আশ্রয় নিলেন। সেখানে তার কাছে খাবার নেই, মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই ,অথচ তিনি সন্তান সম্ভবা। মারিয়ার প্রসববেদনা উঠলো।
জিবরাঈল আলাইহিস সালাম তাকে সান্ত্বনা দিলেন এবং বললেন পাশের খেজুর গাছের কান্ডে নাড়া দিতে, গাছটি তার জন্য পাকা খেজুর দান করবে। এতো কষ্টের মুহূর্তেও আল্লাহ কি চাইলেই তার জন্য পূর্বের মত অলৌকিক ভাবে রিজিকের ব্যবস্থা করতে পারতেন না?
তিনি তো পারতেন তার রুহ জিব্রাইলকে দিয়ে খাবার পাঠিয়ে দিতে। কিন্তু তিনি আদেশ করলেন ,অন্যতম শক্ত একটি গাছের কান্ড ধরে নাড়া দিতে সেই সময়ে,যখন মারিয়াম তার জীবনের অন্যতম দুর্বল অবস্থায় আছে। এই পর্যন্ত শুনে কার মনে কি এসেছে জানিনা। মনে হতে পারে আল্লাহ তাআলা হয়তো বান্দার জন্য কষ্ট চান সহজ চান না।
এখন মনে না হলেও, এরকম দুঃখের মুহূর্তে আমাদের জীবনে যখন আসে তখন অসহ্য লাগে আশেপাশের সব কিছু,তখন নিজের অজান্তেই আমরা কেউ কেউ বলে উঠি- আমার সাথে কেন আল্লাহ?
মারিয়াম আলাইহিস সালামকে সেদিন অল্প কষ্ট দিয়ে তার ছোট্ট একটা পরীক্ষা নিলেন আল্লাহ সুবহান ওয়া তা'আলা।
তার এই গল্পটিকে জায়গা করে দিলেন পবিত্র কুরআনে। হাজার হাজার মানুষের দুঃখের মুহূর্তে সান্তনা খোঁজার মাধ্যম করে দিলেন তিনি মারিয়াম আলাইহিস সালামকে।
যতোবার কেউ তারে ধৈর্য আর তাকওয়ার গল্প শুনে মনে শান্তি পায় ,মারিয়াম আলাইহিস সালামের আমলনামায় কিছু সাওয়াব যুক্ত হয়ে যায়। জান্নাতে তার মর্যাদা বাড়তে থাকে।
আল্লাহ তাআলা তাকে জান্নাতে নারীদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ করেছেন। তার নামে নাযিল করেছেন একটি পূর্ণাঙ্গ সূরা। সেদিন ইমরানের স্ত্রী যদি মেয়ে হওয়ার দুঃখে কাতর , অকৃতজ্ঞ হতেন তবুও মারিয়াম সালামুন আলাইহার মর্যাদা এতোটুকু কি কমতো?
মারিয়াম আলাইহিস সালাম যদি তার কষ্ট দুঃখ আল্লাহর অবাধ্যতা করতেন, তবু কি তার ঔরসে ঈসা নবীর জন্ম হতো না? আল্লাহর পরিকল্পনা অনুযায়ী সবই হতো। শুধু আল্লাহ তাদের সাময়িক পরীক্ষার ফেললেন মাত্র তাও শুধু এজন্যই যে তিনি যেন তাদের মর্যাদা বৃদ্ধি করে দিতে পারেন, সেই দুনিয়ায় যেই দুনিয়ায় শুরু আছে কিন্তু শেষ নেই।
আমাদের জীবনের সুখের মুহূর্ত গুলোর কোন মূল্য নেই, যদি দুঃখ গুলো না থাকে। দুঃখ কষ্টের মূহুর্তগুলো হতাশ হই আমরা শয়তানকে সাহায্য করি। অথচ কুরআনকে আল্লাহ তাআলা বান্দার জন্য পথ প্রদর্শনকারী বানিয়েছেন, অন্তরের শিফা বানিয়েছে ।
আমরা আল্লাহ থেকে মুখ ফিরিয়ে, তারই অবাধ্যতা করে কিভাবে শান্তি কামনা করি? আমরা কি নিজেদের প্রশ্ন করি আমাদের আমল গুলো ঠিকঠাক করা হচ্ছে কিন্তু না, আমাদের দৃষ্টি হেফাজত হচ্ছে কিনা? কানের হেফাজত হচ্ছে তো? অন্তরের গুনাহগুলো দূর করার জন্য কি করছি? আল গফুর আমাদের ক্ষমা করে দিন , আস সবূর আমাদেরকে ধৈর্য ধরার তৌফিক দান করুন।
0 মন্তব্যসমূহ