কিয়ামতের ছোট আলামত
| কিয়ামতের ছোট আলামত - Small signs of the Hour |
সমস্ত প্রসংশা আকাশ-জমিনের সৃষ্টিকর্তা মহান আল্লাহর জন্য। যিনি জীবন মরণের একমাত্র মালিক। মহান সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছাই আমরা এই পৃথিবীতে আগমন করেছি ।তার ইচ্ছাতেই আবার আমরা এই সুন্দর পৃথিবী ছেড়ে চলে যাব ।একদল আসছে অন্য দল বিদায় নিচ্ছে।
মানবজাতির প্রস্থানকে সমুদ্রের ঢেউয়ের সাথে তুলনা করা চলে ।এক ঝাঁক ঢেউ সমুদ্র সৈকতে এসে শেষ হয় তার পিছ ধরেই আরেক ঝাঁক ঢেউ আগমন করে।তারপরেও এবং তীরে এসে শেষ হয় । বর্তমান পৃথিবীতে আপনি যাদের সাথে বাস করছেন তাদের কেউ পাঁচশত বছর পূর্বের মানুষ নয় ।তারা এই পৃথিবীতে আপনার মতই বসবাস করেছিল তারা চলে যাওয়ার পর আপনি এখন তাদের স্থান দখল করে বসে আছেন। আপনিও চলে যাবেন আপনার স্থানে অন্যরা আসবে।
মানবজাতির চলার গতি একদিন থেমে যাবে। সেদিন পৃথিবীতে বসবাসরত সকল মানুষ একসাথে নিঃশেষ হয়ে যাবে । সমস্ত পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে। রাতের তারকাগুলো আলো নিভে যাবে ।সাগরের ঢেউ থেমে যাবে ।নদ-নদীর পানি শুকিয়ে যাবে ।এখানেই শেষ নয় বরং এটি মানবজাতির এক স্থান থেকে অন্য স্থানে গমন মাত্র ।অচিরেই এমন একদিন আসবে আমরা সবাই নতুন এক জগতে ফিরে যাব ।সেখানে আমাদের সকল কাজের হিসাব নেওয়া হবে ।
"আর তোমরা সেই দিনকে ভয় করো ,যে দিন তোমাদেরকে আল্লাহর দরবারে উপস্থিত করা হবে। তখন যে যা অর্জন করেছে তা সম্পূর্ণরূপে প্রদত্ত হবে। আর তাদের প্রতি বিন্দুমাত্র জুলুম করা হবে না "( সূরা- বাকারা, আয়াত -২৮১)
এই দিনকে কোরআনের ভাষায় বিভিন্ন নামে উল্লেখ করা হয়েছে। কোথাও আখেরাত দিবস, কোথাও বিচার দিবস , কোথাও মহান দিবস, কোথাও কিয়ামত দিবস, মহাপ্রলয় ইত্যাদি ।কুরআন মাজিদের এমন পৃষ্ঠা খুব কমই পাওয়া যাবে যেখানে পরকালের অর্থাৎ কেয়ামত দিবসের কথা বলছি তো হয়নি। কেয়ামতের আলামত এর প্রতি ঈমান আনয়ন করা আখেরাতের ওপর আমাদের ইবাদতের অবিচ্ছেদ্য অংশ। কোরআন ও সুন্নাহে অনেক স্থানে আল্লাহর উপর ঈমান আনার পরেই আখিরাতের প্রতি ঈমান আনয়নের কথা বলা হয়েছে এবং বিশেষ গুরুত্বের সাথে উল্লেখিত হয়েছে। কিয়ামতের আলামত গুলো রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবীদেরকে কিয়ামতের ছোট বড় সকল আলামত মুখস্থ করিয়েছেন এবং তার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। মানুষ পার্থিব জগতের ভোগ-বিলাসের মাঝে ডুবে থেকে কেয়ামত ,পরকাল এবং তথাকার শাস্তি ও নেয়ামতের কথা ভুলে যেতে পারে। ফলে আখিরাতের মঙ্গলের জন্য আমল করাও ছেড়ে দিতে পারে। এ জন্য মহান আল্লাহ কিয়ামতের পূর্বে এমন কতগুলো আলামত নির্ধারন করেছেন ,যা আখেরাতের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। কিয়ামতের পূর্বে এমন কতগুলো আদালতের ধারণ করেছেন যাদের কথা স্মরণ করিয়ে দেয় রাসুল সাঃ কিয়ামতের পূর্বে যে সমস্ত আলামত আসবে বলে ঘোষণা করেছেন বড় আলামত গুলো পিরিত অধিকাংশ বাস্তবায়িত হয়েছে। যেগুলো এখনও বাস্তবায়িত হয়নি অদূর ভবিষ্যতে অবশ্যই বাস্তবে পরিণত হবে ,এবং সকল আলামত প্রকাশ হওয়ার পর নির্ধারিত সময়ের মহাপ্রলয় তথা রোজ কেয়ামত প্রতিষ্ঠিত হবে। কিয়ামত কখন হবে তা আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না। এ বিষয়টি ইলমে গায়েব কথা অদৃশ্য বিষয়ের অন্তর্গত ব্যাপারে কুরআন ও হাদিসের দলিল রয়েছে। নবী সাঃ কেয়ামত ও তার ভয়াবহতা সম্পর্কে বেশি বেশি আলোচনা করতেন। তাই লোকেরা তাকে কেয়ামতের সময় সম্পর্কে প্রশ্ন করত। তিনি তাদেরকে সংবাদ দিতেন যে কিয়ামতের বিষয়টি গাইবি বিষয়। আল্লাহ তালা ব্যাতীত অন্য কেউ কেয়ামতের নির্দিষ্ট সময় সম্পর্কে অবগত নয়।
"তারা আপনাকে জিজ্ঞেস করছে যে কেয়ামত কখন প্রতিষ্ঠিত হবে ?আপনি বলে দিন যে, এই বিষয়ে আমার প্রতিপালক জ্ঞানের অধিকারী। শুধু তিনিই কিয়ামতকে নির্দিষ্ট সময়ে প্রকাশ করবেন" ( সূরা আরাফ আয়াত -১৮৭)
আকাশে রাজ্য ও পৃথিবীতে তা হবে একটি ভয়াবহ ঘটনা। তোমাদের উপর তা হঠাৎ করে চলে আসবে এমন ভাবে ওরা আপনাকে প্রশ্ন করছে? আপনি জেনে সবিশেষে অবগত। তারা এটা মনে করে আপনাকে প্রশ্ন করছে যে ,আপনি কেয়ামতের সময় সম্পর্কে পূর্ণ অবগত আছেন ।অথচ এ বিষয়ে আপনার কোন জ্ঞান নেই । আপনি বলে দিন যে এ সম্পর্কে জ্ঞান একমাত্র আল্লাহর কাছে রয়েছে। কিন্তু অধিকাংশ লোকই এ সম্পর্কে কোনো জ্ঞান রাখে না।(সূরা-আরাফ।আয়াত-১৮৭)
"লোকেরা আপনাকে কেয়ামত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করছি আপনি বলুন এর গান শুধু আল্লাহর কাছে এটা কি করে জানাবেন যে সম্ভবত কেয়ামত শীঘ্রই হয়ে যেতে পারে" (সূরা -আহযাব । আয়াত -৬৩)
"আপনাকে জিজ্ঞেস করে কেমন সম্পর্কে যে ওটা কখন করবে এর সমালোচনা সাথে আপনার সম্পর্ক কি এর চরম জ্ঞান আছে আপনার প্রতিপালকের নিকট"
সুতরাং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কিয়ামতের সময় সম্পর্কে জানতেন না, জিব্রাইল আলাই ওয়াসাল্লাম ও নয় ।এমন কি যেই ফেরেস্তা সিংগা মুখে নিয়ে আল্লাহর আদেশের অপেক্ষায় আছেন ,তিনিও কিয়ামতের সময় সম্পর্ক সম্পূর্ণ অজ্ঞ। কেয়ামতের নির্দিষ্ট সময় গোপন রাখার উদ্দেশ্য হল মানুষ যাতে সব সময় সতর্ক থাকে ।পরকালের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করে এবং সর্বদা সৎ কাজে লিপ্ত থাকে।
এক ব্যক্তি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করল কেয়ামত কখন হবে? উত্তরে তিনি বললেন কিয়ামতের জন্য তুমি কি প্রস্তুত করেছ?
সে বলল কোন কিছুই প্রস্তুত করে নিতে হবে আমি আল্লাহকে ভালবাসি এবং আল্লাহর রাসূলকে ভালোবাসি । তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন তুমি যাকে ভালোবাসো কেয়ামতের দিন তুমি তার সাথেই থাকবে। আনাস রাদিয়াল্লাহু তা'আলা বললেন আমরা একথা শুনে যতটা খুশি হলাম তত খুশি আর কখনো হয়নি। আনাস রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আরও বলেন আমি নবীকে ভালোবাসি আবু বক্কর কে ভালবাসি এবং ওমরকে ও ভালোবাসি আশা করি তাদেরকে ভালোবাসার কারণে আমি তাদের সাথেই থাকবো। যদি ও আমি তাদের নেক আমল করতে পারিনা" (বুখারী অধ্যায়ঃ কিতাবুস্ মানাকিব)
কিয়ামতের ছোট আলামত এর মধ্যে রয়েছে-
১. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আগমন ও মৃত্যুবরণ ।
২.চাঁদ দ্বিখণ্ডিত হবে ।
৩.বাইতুল মাকদিস ফিলিস্তিনি বিজয় হবে ।
৪.ধন সম্পদ বৃদ্ধি পাবে।
৫. কিয়ামতের পূর্বে অনেক ফিতনার আবির্ভাব হবে।
৬. ভন্ড ও মিথ্যুক নবীর আগমন হবে ।
৭. হেজায অঞ্চল বর্তমান (সৌদি আরবের পশ্চিমবঙ্গ) থেকে বিরাট একটি আগুন বের হবে ।
৮.আমানতের খেয়ানত তবে।
৯. দ্বিনি উঠে যাবে এবং মূর্খতা বিস্তার লাভ করবে। ১০.অন্যায়ভাবে জুলুম নির্যাতনকারী সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে।
১১.যেনা ব্যভিচার বৃদ্ধি পাবে।
১২. সুদখোর সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে।
১৩. গান-বাজনা এবং গায়িকার সংখ্যা বেড়ে যাবে।
১৪. মদ্যপান হালাল মনে করবে।
১৫. মসজিদ নিয়ে লোকেরা গর্ব করবে।
১৬.দালানকোঠা নির্মাণের প্রতিযোগিতা করবে।
১৭.দাসি তার মনিব কে জন্ম দেবে ।
১৮.সময় দ্রুত চলে যাবে ।
১৯.মুসলিমরা শির্কে লিপ্ত হবে।
২০. ঘন ঘন বাজার- মেলা হবে।
২১. আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা হবে।
২২. লোকেরা কালো রঙের চুলদাড়ি রাঙাবে।
২৩. কৃপণতা বৃদ্ধি পাবে।
২৪. ব্যবসা-বাণিজ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়বে ।
২৫.ভূমিকম্প বৃদ্ধি পাবে।
২৬.ভূমিধস ও চেহারা বিকৃতি শাস্তি দেখা যাবে।
২৭. মানুষ তার পরিচিত লোকদের কেই সালাম দেবে।
২৮. বেপর্দা নারীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে ।
২৯. মুমিনদের স্বপ্ন সত্য হবে ।
৩০.মানুষ সুন্নতি আমল সম্পর্কে গাফিলতি করবে।
৩১.মাসের চাঁদ ওঠার সময় চাঁদ বড় হয়ে উদিত হবে।
৩২. মিথ্যা কথা বলার প্রচলন বৃদ্ধি পাবে।
৩৩. মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়ার প্রচলন ঘটবে ।
৩৪.মহিলাদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে এবং পুরুষের সংখ্যা কমে যাবে।
৩৫. হঠাৎ মৃত্যু বরণকারী সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে।
৩৬.আরব উপদ্বীপ নদ নদী এবং গাছপালার পূর্ণ হয়ে যাবে ।
৩৭.প্রচুর বৃষ্টিপাত হবে ফসল হবেনা ।
৩৮. ফুরাত নদীতে স্বর্ণের পাহাড় বের হবে।
৩৯. জড় পদার্থ এবং হিংস্র পশু মানুষের সাথে কথা বলবে।
৪০. ফিতনায় পতিত হয়ে মানুষ মৃত্যু কামনা করবে। ৪১. আরবের কাতাহান গোত্র থেকে একজন সৎ লোক বের হবে।
0 মন্তব্যসমূহ